প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। পড়তে কিংবা লিখতেও শেখা হয়নি। অথচ শৈশব থেকেই কোরআন তেলাওয়াত শুনে পবিত্র কোরআনের প্রতি তৈরি হয়েছিল গভীর টান। সেই টান থেকেই জীবনের একপর্যায়ে শুরু করেন কোরআন হেফজের চেষ্টা। দীর্ঘ কয়েক দশকের অধ্যবসায়ের পর ৭১ বছর বয়সে এসে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছেন মিসরের সানা আবদেল সাত্তার।
মিসরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা সানা। ছোটবেলায় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতেন তিনি। সেখান থেকেই কোরআনের আয়াতগুলো শোনার ও মনে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়।
তরুণ বয়সে কোরআন হেফজের যাত্রা শুরু করলেও সংসারজীবনের ব্যস্ততায় সেই প্রচেষ্টা বারবার থেমে যায়। বিয়ের পর স্বামী-সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি তিন সন্তানকে বড় করার ব্যস্ততাও ছিল। ফলে নিয়মিতভাবে হেফজ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না।
তবে বয়স বাড়লেও লক্ষ্য থেকে সরে যাননি সানা। পড়তে বা লিখতে না জানায় প্রচলিত পদ্ধতিতে কোরআন দেখে মুখস্থ করার সুযোগ ছিল না তার। তাই তেলাওয়াত শুনে শুনে আয়াত মনে রাখা এবং বারবার তা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।
দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে অনুশীলনের পর অবশেষে ৭১ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজের লক্ষ্য পূরণ করেন সানা। বর্তমানে মুখস্থ করা আয়াতগুলো আরও দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছেন তিনি।
মিসরীয় সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইউএনএ নিউজ জানিয়েছে, সানা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ পারা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া একজন নারীর দীর্ঘদিনের সাধনায় কোরআন হেফজ সম্পন্ন করার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস