সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চালক ও আরোহীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় চালক ও আরোহী- দুজনকেই অনুমোদিত মানের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। একটি মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে উচ্চশব্দের হর্ন বাজানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য না করার বিষয়েও চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের আশপাশে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব যানবাহনের ব্লাইন্ড স্পটে অবস্থান করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোড় নেওয়া কিংবা এক লেন থেকে অন্য লেনে যাওয়ার আগে যথাসময়ে ইন্ডিকেটর ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামনে থাকা যানবাহনের সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টি, ঝড় বা কুয়াশার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় দৃশ্যমানতা কমে গেলে গতি কমিয়ে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের ধৈর্য ধরে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যানজট কিংবা অন্য কোনো চালকের ভুল আচরণে উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মাদক গ্রহণের পর, অতিরিক্ত ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় এবং বিপরীত লেনে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণভাবে পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং না করে নিজস্ব লেনে চলাচল এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় ও হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ বলছে, সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক ও পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। ট্রাফিক আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালালেই সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়ানো সম্ভব।
সদ্য সংবাদ/এসকে