পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে থাকা ও দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে পাহাড়ের কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ৪৯৩ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ২৮৫ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে জেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলার ৯০ জন নারীকে এ সহায়তার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস