নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ একমাত্র সন্তানকে খুঁজে পেতে অসহায় এক বাবা দিনের পর দিন ছুটে বেড়াচ্ছেন দুর্গম পাহাড়ি পথে। হাতে নেই পর্যাপ্ত অর্থ, তবুও আশা ছাড়েননি তিনি। ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ধার করা মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি নিয়েই শুরু করেছেন দীর্ঘ অনুসন্ধান।
নিখোঁজ যুবকের নাম বিনোদ সদা। তার বাবা তালকা সদা জানান, বন্যার আগের দিনই ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল তার। এর কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় গিয়েছিলেন বিনোদ। সেখানে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
ছেলের খোঁজে তালকা সদা তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে, ভাঙাচোরা পথ পেরিয়ে তারা একের পর এক জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সামান্য কিছু টাকা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েই চলছে তাদের এই অনিশ্চিত যাত্রা।
সদা জানান, যাত্রার খরচ মেটাতে স্থানীয়ভাবে টাকা ধার করতে হয়েছে তাকে। সেই টাকার বিপরীতে সুদও দিতে হবে। এরই মধ্যে বাসভাড়া ও অন্যান্য খরচে ধার করা অর্থের বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে।
কাঠমান্ডু পৌঁছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রে ছেলের সন্ধান করেছেন তিনি। বন্যার পর দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা আহত ও নিহতদের তথ্য খুঁজে দেখেছেন। এমনকি মর্গে থাকা মরদেহগুলোর ছবিও দেখেছেন, কিন্তু ছেলের কোনো সন্ধান পাননি।
পরে ছেলের কর্মস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশায় কাঠমান্ডু থেকে নুয়াকোটের দিকে রওনা হন তারা। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ত্রিশুলি এলাকায় পৌঁছান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এখনো কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও পানিতে বিপর্যস্ত।
তালকা সদা অভিযোগ করেন, ছেলের খোঁজে বিভিন্ন সরকারি জায়গায় গেলেও অনেক সময় সহযোগিতা পাননি তারা। তিনি দাবি করেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ হওয়ায় তাদের প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সদা বলেন, ছেলে জীবিত থাকুক বা না থাকুক, অন্তত তার শেষ খবরটি জানতে চান তিনি। সন্তানের মরদেহ হলেও নিজের চোখে দেখতে চান বলে জানান এই বাবা।
নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস