নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। অভিযোগ রয়েছে, সেতুর ফুটপাত নির্মাণে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢালাইয়ে নির্ধারিত অনুপাতে সিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।
হাসানহাট বাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শনের পর ত্রুটিপূর্ণ অংশ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফুটপাতের পাটাতন ভেঙে নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজে গাফিলতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডলের স্বাক্ষরে তিনটি পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি না করার অভিযোগে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে নকশা ও নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন মেনে সাত দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মপূর্ণ কাজের বিপরীতে কোনো বিল পরিশোধ না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জমিদারহাট-সাহেবেরহাট-হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিদর্শনের সময় সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন না মানার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে হাসানহাট বাজারের কাছে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুর কাজ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়দের আপত্তিতে নির্মাণাধীন কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে ওই সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ বলেন, রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার করা অংশ সম্পূর্ণ অপসারণ করে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে ঠিকাদারপক্ষের এমন ব্যাখ্যাও কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছে না বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস