চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পরকীয়ায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিনহাজ খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূকে মারধরের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাহেদুলকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তাঁর মা নাসিমা আক্তার পলাতক রয়েছেন।
শনিবার রাতে দোহাজারী পৌরসভার হাছনদণ্ডী এলাকার নাসির মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সন্ধ্যায় চন্দনাইশ থানা-পুলিশ মিনহাজের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের ছোট বোন হাফছা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে নাসির মাস্টারের বাড়ির খাইরুল বশরের ছেলে জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে মিনহাজের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন ও দেড় বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে।
হাফছার অভিযোগ, বিয়ের পর জাহেদুল অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানোয় মিনহাজকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
হাফছা বলেন, শুক্রবার রাতে ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন জাহেদুল। এ সময় মিনহাজ ফোনটি নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শনিবার রাতে জাহেদুলসহ পরিবারের কয়েকজন মিনহাজকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাফছার ভাষ্য, রাত ১টার দিকে জাহেদুল ফোন করে জানান, মিনহাজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি তা বিশ্বাস করেননি। পরে জাহেদুল ভিডিও কলে মিনহাজকে দেখান। সেখানে মিনহাজকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান হাফছা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিনহাজকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ দেন। মিনহাজ বাথরুমে পড়ে মারা গেছেন এমন কথা প্রচার করতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এ ঘটনায় একটি আপসনামাও প্রস্তুত করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ সুরতহাল করার সময় মিনহাজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এ ছাড়া তাঁর হাত, পা ও গলায় রশি দিয়ে বাঁধার কালো দাগ ছিল বলেও দাবি পরিবারের সদস্যদের।
মিনহাজের বাবা আবুল ফজল বাদী হয়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, মিনহাজের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর