সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সরকারি ব্যবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষে রোগী দেখার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সহকারীর মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ডও দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে সাধারণ রোগীর মতো হাসপাতালের ১০৪ নম্বর কক্ষে যান এক সাংবাদিক। সেখানে দায়িত্বে থাকা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক রোগীর শারীরিক সমস্যার কথা শুনে সিবিসি, ডেঙ্গু, প্রস্রাব ও সিআরপি পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর ওই রোগীর হাতে ‘তালুকদার হেলথ কেয়ার অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার’-এর একটি ভিজিটিং কার্ড তুলে দেন চিকিৎসকের সহকারী। তার বক্তব্য ছিল, হাসপাতালের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে গেলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরীক্ষা করাতে চাইলে নির্দিষ্ট ওই প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক নিজেই রিপোর্ট দেখবেন বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা আরও কয়েকজন রোগীর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে নানা কারণে তাদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।
এমনই একজন রোগী মোছা. বিউটি খাতুন। তিনি জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাম করার নির্ধারিত দিন না থাকায় তাকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এজন্য তার প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তার দাবি, ‘তালুকদার হেলথ কেয়ার অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার’ তার ব্যক্তিগত চেম্বার হলেও সেখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী সেখানে গেলেও তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা ফি নেওয়া হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য নেই। কোনো রোগী লিখিত অভিযোগ করলে হাসপাতালের অভিযোগ বক্সে তা জমা দিতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চিকিৎসাসেবার অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামোগত অবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রোগীদের অভিযোগ, ১০৪ নম্বর কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
রোগীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি।
সদ্য সংবাদ/এসএস