রাজধানীতে ভবনের নকশা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা ও নাগরিক ভোগান্তি কমাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- রাজউকের সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিভিন্ন দপ্তরে আলাদা আলাদাভাবে না ঘুরে একটি জায়গায় আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রাজউকের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসে রূপান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল জানান, বর্তমানে নকশা অনুমোদনের জন্য ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এই জটিলতা কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কমিটির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু নকশা অনুমোদন নয়, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিকভাবে সময় ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে আবাসন খাতে জটিলতা কমানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাটের সুযোগ তৈরির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা এফএআর-সংক্রান্ত বিধিমালার জটিলতার কারণে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির সদস্য।
নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের পরও যেসব ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি, সেগুলোকে নির্দিষ্ট বিধি ও শাস্তির আওতায় এনে বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি রাজধানীকে আরও পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য করে তুলতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে