জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, দেশের স্বার্থ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন সরকারপ্রধান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশপ্রেম, মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, কীভাবে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা যায় এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া যায়- এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে একটি ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর তাদের পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নির্ধারিত। মাহ্দী আমিন জানান, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে নিউইয়র্কে চার কর্মদিবস অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরসঙ্গীদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে। এর বাইরে প্রয়োজনীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ সীমিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান।
সদ্য সংবাদ/এসকে