রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রেল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে আম্মার বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করলে কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম করলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার ঘটনা আর মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কোনো ভুল বা অপরাধ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মারধরের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন পর্যায় পর্যন্ত তার এই বার্তা পৌঁছাবে- এমন প্রত্যাশাও জানান রাকসু জিএস। একই সঙ্গে রাবির শিক্ষার্থীদেরও বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ, চেইন টানা বা অন্য কোনো অনিয়মে না জড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আম্মার দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর আগে শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশনে বিক্ষোভ করেন রাবির শিক্ষার্থীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ভাঙচুর ও রেল যোগাযোগে বিঘ্নের ঘটনাও ঘটে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে।
নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে রাবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আম্মার বলেন, তারা যদি নিজেদের অবস্থানে সঠিক থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও রেল যোগাযোগে বিঘ্নের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও রেলওয়ে সম্পদের সুরক্ষা- দুই বিষয়েই এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে