সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি বাসভবন থেকে কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে রাজধানীর ন্যাম ভবনে তাঁর সরকারি বাসভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর পর এসব চিঠি উদ্ধার করা হয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। চিঠিগুলোতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট, অবহেলা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে মরিয়ম তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে লেখেন, তিনি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, যিনি অন্য একজন নারীর স্বামী ছিলেন। চিঠিতে ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
অন্য একটি চিঠিতে গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মরিয়ম লেখেন, তাঁদের সম্পর্ককে একটি খেলার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকেই সেই খেলায় ‘দাবার শেষ গুটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরেকটি চিঠিতে নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, মায়ার কারণে বারবার নত হলেও নিজেকে তিনি ততটা অসহায় বা মূল্যহীন মনে করেন না।

জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি চিঠিতে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে মরিয়ম দাবি করেন, তিনি বিশ্বাস করে সম্পর্ক ও এক ধরনের লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে যাকে নিজের পক্ষের মানুষ মনে করেছিলেন, তাকেই বিপক্ষ দলের ‘সেনাপতি’ হিসেবে দেখতে পেয়েছেন।
চিঠিগুলোতে ব্যবহৃত ভাষায় মরিয়মের ব্যক্তিগত কষ্ট, অভিমান ও সম্পর্ক নিয়ে হতাশার বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে এসব চিঠির বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা, এগুলোর প্রেক্ষাপট এবং মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না- তা তদন্তের বিষয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলের অপেক্ষা রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে