সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে- দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে বাড়তি আয়ের স্বস্তি, অন্যদিকে বেতন না বাড়া বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের সামনে বাড়ছে নতুন খরচের চাপ। এর মধ্যেই এক লাফে লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। অর্থাৎ, এক শ্রেণির মানুষের আয় বাড়ছে, কিন্তু বাড়তি খরচের চাপটা পড়ছে প্রায় সবার ওপরই।
নতুন দামে অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০, ডিজেল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু পাম্পে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হয় না। বাড়ে পরিবহন খরচ, পণ্য পরিবহনের ব্যয়, উৎপাদন খরচ। আর সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পড়ে বাজারের পণ্য ও সেবার দামে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি আয় দিয়ে এই চাপের একটি অংশ সামাল দিতে পারলেও, যাদের আয় একই আছে- সেই বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর কিংবা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হিসাবটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে চাপে সাধারণ মানুষ। মাসের শুরুতে যে আয়, সেই আয়েই খাবার, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত- সব খরচ চালাতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে যদি খরচ বাড়ে, আর আয় একই জায়গায় থাকে- তাহলে প্রকৃত আয় কমে যায়। এখানেই সামনে আসছে আয়-বৈষম্যের বড় প্রশ্ন।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন যদি সেই হারে না বাড়ে, তাহলে একই বাজারে পণ্য কিনতে গিয়ে তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হতে পারে। আবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে বাড়তে পারে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়। এই দুইয়ের প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে অর্থের সংস্থান, উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বলছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু সাধারণ মানুষের হিসাব আরও সরল-
বেতন বাড়েনি, কিন্তু খরচ তো থেমে নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ছে, অথচ বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের আয় যদি একই থাকে, তার ওপর যদি জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ে- তাহলে বাড়তি খরচ বহন করবে কারা? শেষ পর্যন্ত তাই প্রশ্নটা শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত বাড়ল, তা নয়।
প্রশ্ন হলো- যাদের বেতন বাড়েনি, তাদের জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় সামলানোর পথ কী?
কারণ আয় না বাড়লে, বাজারে প্রতিটি বাড়তি দামই হয়ে ওঠে নতুন চাপ। আর বেতন বাড়ার এই স্বস্তি তখনই অর্থবহ হবে, যখন বাজারের দামও থাকবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে।
সদ্য সংবাদ/এসকে