নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির টাঙানো ব্যানার সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যানার টাঙানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল বডি সেগুলো খুলে দেয় বলে অভিযোগ ছাত্রশক্তির। এরপর সংগঠনটির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার লাগালেও বৃহস্পতিবার সকালে সেটিও আর পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যানারগুলো টাঙানো হয়। এসব ব্যানারে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, নিয়োগ এবং শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতা নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন তারা।
তার ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন খাতের সংকট ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার তাদের ভুলত্রুটি সংশোধন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে জানান সংগঠনটির নেতারা।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখান থেকে চলে গেলে রাত ১টার দিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার নিয়ে আবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তা টাঙিয়ে দেন।
কিন্তু সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে তারা দেখতে পান, দ্বিতীয়বার লাগানো ব্যানারগুলোরও কোনোটি আর সেখানে নেই। এগুলো কারা সরিয়েছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্যানারগুলো দ্বিতীয়বার উধাও হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। সংগঠনটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় টাঙানো ব্যানার তারা সরায়নি।
এ অবস্থায় ব্যানার সরানোর ঘটনায় অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ছাত্রশক্তির নেতারা। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রশাসন কোনো পক্ষের মাধ্যমে ব্যানার সরিয়ে নিয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাটিকে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, ব্যানার অপসারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস