জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং অপরিকল্পিতভাবে ফুটপাথ ও সাইকেল লেন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’- এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কমিটির (টিএমসি) সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই প্রায় ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, ফুটপাথ ও পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার প্রকল্পটির উদ্বোধনের কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।
মানববন্ধনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’- এর অন্যতম সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিস বলেন, “উন্নয়নের নামে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটা পড়েছে এবং অসংখ্য লেক ও জলাধার ভরাট হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং লেক শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “মানববন্ধনের খবর পেয়ে প্রশাসন প্রায় ২৫ কোটি টাকার ফুটপাথ ও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন স্থগিত করেছে। সাত বছরের আন্দোলনের ফলে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য আর্থিক সংকুলান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই নতুন কোনো খণ্ডিত উন্নয়নকাজ শুরুর আগে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ দৃশ্যমান করতে হবে।”
জেনিসের দাবি, ফুটপাথ ও সড়ক নির্মাণের এই পরিকল্পনাটি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন কোনো সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়াই সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যকর হবে না।
মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে অদ্রি অংকুর বলেন, মূল সড়ক ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে নতুন কলা ভবন নির্মাণের ফলে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। এটি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিএসসি-সংলগ্ন পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষাকালে ক্যাম্পাসে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, ক্যাম্পাসের জলাধার, গাছপালা ও সড়কব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে খণ্ডিত ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া, পৃথক ও সামগ্রিক পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ বা ফুটপাথ নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বিভাগীয় সম্প্রসারণ, আবাসন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসকে