দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীকে দলের সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। রোববার রাত ৮টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ডা. ছালেক চৌধুরীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ডা. ছালেক চৌধুরী বলেন, বহিষ্কারের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন এবং এ ধরনের কোনো নোটিশ তার কাছে পৌঁছায়নি। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং সেটি আজ বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। সেই সময়সীমার আগে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে তবেই তা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, নেত্রীর মৃত্যুতে তারেক রহমান এই মুহূর্তে শোকাহত এবং দলের ভেতরে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা একদিন এর ফল ভোগ করবে।
প্রসঙ্গত, ডা. ছালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র আজ বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে।