সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো সামরিক তৎপরতা অনুমোদিত হবে না।
বৈঠকের পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, “আজ থেকে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো। যুদ্ধ বা শান্তি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ইখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।”
এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল প্রেক্ষাপট হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ১ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। এই কর্মকাণ্ড ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সম্পাদিত ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে।
প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বহীন’ আখ্যায়িত করে বলেন, হিজবুল্লাহর এই আচরণ লেবাননকে আবারও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে টেনে নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবানন সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হতে পারে। তবে এটি হিজবুল্লাহ কিভাবে গ্রহণ করবে এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
গত কয়েক দশক ধরে হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি