ইকুয়েডরে মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযান

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাতের মধ্যেই লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে সরাসরি সামরিক অভিযানে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড নিশ্চিত করেছে, মাদক পাচার নির্মূল এবং ইকুয়েডরের ভেতরে সক্রিয় ‘নির্ধারিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক সম্রাটদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন সামরিক কমান্ড জানায়, ইকুয়েডরের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এক বিবৃতিতে সাউথকম উল্লেখ করে, দীর্ঘদিন ধরে যারা পুরো অঞ্চলের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দুর্নীতি চাপিয়ে দিয়েছে, সেই নার্কো-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইকুয়েডর বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থান করায় প্রায় ৭০ শতাংশ মাদক এই দেশের ভেতর দিয়েই পাচার হয়। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ইকুয়েডরকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রাণঘাতী দেশে পরিণত করেছে। এই ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ দমনে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইকুয়েডরের নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। যদিও গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নিষিদ্ধের পক্ষে জনমত দেয় ইকুয়েডরের জনগণ, তবুও বিশেষ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে মান্তা বন্দর নগরীতে অবস্থিত সাবেক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ড্রোন ও নজরদারি বিমানের মাধ্যমে মাদক পাচারকারীদের অবস্থান শনাক্ত করছেন।

এই নতুন মার্কিন অভিযানকে শুধু ইকুয়েডরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। ওয়াশিংটনের দাবি, নার্কো-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই যৌথ সামরিক কার্যক্রম লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। তবে একই সঙ্গে এ অঞ্চলে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা প্রতিশোধের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইকুয়েডরের সাধারণ মানুষ এক দ্বিধাবিভক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে মাদক সন্ত্রাসীদের সহিংসতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশা, অন্যদিকে দেশের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট নোবোয়া অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আগামী দিনে এই যৌথ অভিযান লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারের মানচিত্র কতটা বদলাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে: জামায়াত আমির সদ্য. ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুতে চলবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন: মীর শাহে আলম সদ্য. জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে ধরবেন যেসব বিষয় সদ্য. বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে যাত্রীবাহী বাস, প্রাণ গেল ১ জনের সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভা অনুষ্ঠিত সদ্য. লংমার্চের বদলে সরকারকে সময় দেন: ডিএসসিসি প্রশাসক সদ্য. নিখোঁজের ১ দিন পর কুবি শিক্ষিকার ছেলের নিথরদেহ উদ্ধার সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে: জামায়াত আমির সদ্য. ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুতে চলবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন: মীর শাহে আলম সদ্য. জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে ধরবেন যেসব বিষয় সদ্য. বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে যাত্রীবাহী বাস, প্রাণ গেল ১ জনের সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভা অনুষ্ঠিত সদ্য. লংমার্চের বদলে সরকারকে সময় দেন: ডিএসসিসি প্রশাসক সদ্য. নিখোঁজের ১ দিন পর কুবি শিক্ষিকার ছেলের নিথরদেহ উদ্ধার