বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারী ও শিশুরা উন্নয়নের মূলধারার অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গরিব ও অসচ্ছল নারীদের জন্য ভিজিডি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।'
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ডিএনএ ল্যাব, ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।'
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভবিষ্যতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সহায়তা আরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।'
নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, বিপণন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশু কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিশু একাডেমির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ, অটিজম সচেতনতা কার্যক্রম এবং পথশিশু পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার এবং ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।'
এছাড়া নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সংস্কার কাজ পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।