সোমবার (২৪ নভেম্বর) অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পূর্তিতে আবারো কারখানার সামনে জড়ো হয়েছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনরা। ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে আজ সকাল থেকেই ভবনটির সামনে অবস্থান নেন পাঁচ নারী শ্রমিক।
ভবনের সামনে কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে থাকা নাটা বেগম বলেন, ‘গতকাল রাইতে গোপালগঞ্জ থিকা আইছি। তাজরীনের তিনতলায় বুয়ার কাজ করতাম। ওই দিন জানলা দিয়া লাফাইয়া বাঁচছি। আমাগো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।'
রংপুরের মাহমুদা বেগমও ভুলতে পারেননি সেই সেই রাতের ভয়াবহ দৃশ্য। তিনি বলেন, ‘ওই দিন সন্ধ্যায় অ্যালার্ম বাজছে, আমরা দৌড়ে নিচে নামি। তিনতলা পর্যন্ত নামার পর দেখি গেটে তালা মারা। বের হওয়ার কোনো রাস্তা নাই। দেখি মানুষ লাফ দিয়ে বের হচ্ছে। বের হতে যেয়ে নিচে পড়ে মাথায়,-ঘাড়ে আঘাত পাই। ওই দিন তো আগুন থিকা বাঁচছি। ভয় লাগে ভবন ভাঙলে মইরা যামু। তাই এইখানে ঘুমাইছি। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই, মালিকের শাস্তি চাই।’
মাদারীপুরের খাদিজা আক্তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, কীভাবে ছাদের কাছে গিয়ে দেখেছিলেন শ্রমিকদের পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা আর ভয়ঙ্করভাবে আহত হওয়ার দৃশ্য।
তিনি বলেন, ‘আমি লাফ দিতে সাহস পাই নাই। অন্য পাশ দিয়া নামার চেষ্টা কইরা নিচে পইরা গেছি। মাথায় আঘাত পাইয়া তিন বছর পাগলের মতো ছিলাম। মা-বাপ চিনি নাই। স্বামী ছাইরা চইলা গেছে। ডাক্তার দেখাইতে ভিটামাটি বিক্রি কইরা দিছি। আমরা বাঁচতে চাই।’
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ করেন, তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি হয়নি। নিহতের স্বজন ও আহতরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও দোষীরা শাস্তির বাইরে রয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। বিগত সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাঁদের পুনর্বাসন না করে দায়ী তাজরীনের মালিককে পুরস্কৃত করেছে। তাজরীনের মালিকসহ দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দেড় বছরে সেই আশ্বাসের কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। তাজরীন ট্যাজেডির ১৩ বছর পূর্তিতে আমাদের দাবি, সরকারের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন, তাজরীনের মালিকসহ দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।