শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে ‘স্লেজিং’কে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালককে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী ও প্রভাষক আব্দুল বাসিত এবং বাংলা বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক। অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী ও আব্দুল বাসিত মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলা বিভাগের আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ফারদিন ইসলাম ও মাহফুজ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক মিলন। এদের মধ্যে সাজিদ ও ফারদিনকে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা যায়, ফাইনাল ম্যাচে প্রথম ইনিংস শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলা বিভাগ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্লেজিং ও বাগবিতণ্ডা বাড়তে থাকে। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হলেও বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে থাকা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ফিল্ডারকে স্লেজিং করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, মাঠে আমাদের এক খেলোয়াড়কে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাজেভাবে স্লেজিং করে। পরে মারধরের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। আমি বাধা দিতে গেলে একজন আমার চোখে ঘুষি মারে।
তবে বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের শিক্ষার্থীরা আগে মাঠে যায়নি।
প্রক্টর মোখলেসুর রহমান জানান, প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং তাঁদের দু’জন সদস্যও আহত হয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি এছাক মিয়া বলেন, একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়, পরে স্লেজিংয়ের জেরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।