বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জারি করা প্যাথলজি ল্যাবের জন্য জরুরি নির্দেশনায় (স্মারক নং: স্বঃ অধি/হাসঃ/নির্দেশনা/২০২৫/১৫) নির্দেশনা নং (৫)-এ বলা হয়, শুধুমাত্র বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকরাই ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে পারবেন। উক্ত নির্দেশনার বাতিল অথবা সংশোধনের দাবিতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, 'এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনার্স জীবনের শুরু থেকেই ল্যাবভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে তারা দক্ষতা অর্জন করে এবং স্নাতকোত্তর পর্যায় শেষে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করার সুযোগ পায়। হঠাৎ করে জারি করা এই নির্দেশনা নিঃসন্দেহে তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলবে। পাশাপাশি বায়োকেমিস্টের অভাবে সাধারণ জনগণকেও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ডাক্তাররা কখনোই আমাদের প্রতিপক্ষ নন, বরং তারা আমাদের সহযোগী। আমি অনতিবিলম্বে এই নির্দেশনার বাতিল অথবা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। নির্দেশনাটি পরিবর্তনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করবো।'
প্রতিবাদ সমাবেশে বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, 'শিক্ষক হিসেবে আমরা মনে করি- শিক্ষার্থীরা চার বছরের একাডেমিক জীবনে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত ল্যাব কার্যক্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ল্যাবভিত্তিক কাজে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেছে, যা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।'
তিনি বলেন, 'সম্প্রতি জারি হওয়া এই আদেশ শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পষ্ট অবিচার এবং উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।'
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, 'দেশের স্বাস্থ্যখাতের বৃহত্তর স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে উক্ত স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ দ্রুত বাতিল অথবা সংশোধন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের ডায়াগনস্টিক রিপোর্টে স্বাক্ষরের বৈধতা দিয়ে নতুন নির্দেশনা জারির দাবি জানাচ্ছি।'
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তানজিনা আক্তার রিমি বলেন, 'চার বছরের একাডেমিক জীবনে আমরা বিভিন্ন বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ল্যাবরেটরিতে কাজের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করেছি। এই প্রশিক্ষণই আমাদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের মূল ভিত্তি।'
আরেক শিক্ষার্থী ফাইজা বিনতে রহমান ঐশী বলেন, 'সম্প্রতি জারি হওয়া এই আদেশ আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি সরাসরি চাকরি খাতে প্রবেশের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আমাদের চার বছরের পরিশ্রম, ল্যাবভিত্তিক অভিজ্ঞতা ও অর্জিত যোগ্যতাকে কার্যত অস্বীকার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানান, অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্দেশনাটি সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
সদ্য সংবাদ/মেহরাজ হোসেন