শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু লড়াই জমিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। নিজেদের মাঠে টেস্ট সিরিজে এই প্রথম পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়ল স্বাগতিকরা।
জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩০ রান। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই পাকিস্তানি বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বেন ডাকেটকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। একই ওভারে আরেকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ২ রানেই দুই ব্যাটারকে হারায় ইংল্যান্ড।
নতুন বলে পাকিস্তানের পেসাররা সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে ইংলিশ ব্যাটারদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলেন। কিন্তু দ্রুত আরও উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জো রুট ও জর্ডান কক্স। শুরুতে সাবধানে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুজনই রান তোলার গতি বাড়ান। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
ব্যক্তিগত ৬২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন রুট। অন্যদিকে কক্সের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫৯ রান। দুজনের অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটিতে মাত্র ২৪.২ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অবশ্য পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। জবাবে বড় সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান তুলে ৩২০ রানের বিশাল লিড নেয় স্বাগতিক দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ৪৪৯ রান সংগ্রহ করে তারা। দলের হয়ে রাজাউল্লাহর কার্যকর ব্যাটিং পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখায়।
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। চতুর্থ দিনের শুরুতে আব্বাসের দ্রুত দুই উইকেট ইংল্যান্ডকে কিছুটা চাপে ফেললেও সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
রুট ও কক্সের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তানের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। ৮ উইকেটের জয় দিয়ে শুধু সিরিজই ৩-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয়নি ইংল্যান্ড, নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার ইতিহাসও গড়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে