ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, শনিবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এতদিন এ ধরনের আলোচনা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে ভারত-মালয়েশিয়ার পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদারের অংশ হিসেবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের দাবি তারা বুঝতে পারছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক- দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাকির নায়েক অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করছেন।
২০১৬ সালে ভারতে জাকির নায়েক ও তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং পিস টিভির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান।
দীর্ঘদিন ধরে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। তবে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, যথেষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হলেই কেবল প্রত্যর্পণের বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর আগে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগও সফল হয়নি। পর্যাপ্ত প্রমাণের ঘাটতির কারণে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, জাকির নায়েককে ঘিরে ভারতের অভিযোগ ও তার বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে জাকির নায়েক ও তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদি ও আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকের পর জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণের বিষয়টি আবারও ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে