নাটোরের নলডাঙ্গা পৌর বাজারের তন্নী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা রানীর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নলডাঙ্গা থানা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে অভিযুক্তদের কাছে দিয়েছিলেন। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য এনজিওকর্মীদের চাপের মুখে পড়ে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত এক এনজিওকর্মী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, নিমাই চন্দ্র তামেলীর বাড়ি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার জাতসাখিনী ইউনিয়নের নাটিয়াবাড়ী এলাকায়, একটি স্কুলের পাশে। তাঁরা অভিযুক্ত দম্পতিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের সন্ধান বা আটকের বিষয়ে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন মানববন্ধনকারীরা। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ০১৭২৯-৬১১৬৯৩ নম্বরটি উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নলডাঙ্গা উপজেলার কুটুরীপাড়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) বাদী হয়ে নাটোরের আমলি আদালত ও পাবনার আমিনপুর থানায় পৃথক মামলা করেছেন বলে জানান। মামলার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, স্বর্ণ ব্যবসার সূত্রে নিমাই চন্দ্র তামেলীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সুবাদে বিশ্বাস অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নেন নিমাই। পরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তা পরিশোধ না করে নানা টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিমাই চন্দ্র তামেলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাড়া বাসা এবং দোকানে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা পাওনা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, “এ ঘটনা সম্পর্কে আমি মৌখিকভাবে অবগত হয়েছি। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
সদ্য সংবাদ/ এরআর