জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটি হলো- নাদিম হত্যাচেষ্টা ও রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথক তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দুটি জমা দেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শিগগিরই আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
তদন্তে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় ১০৫ জনের মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক কর্মকর্তাসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস।
এ ছাড়া অব্যাহতির সুপারিশের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলা
অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা নিহতের ঘটনায় করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান।
এই মামলায়ও তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এ ছাড়া পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড।
এ মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
এখন আদালতে অভিযোগপত্র দুটি গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে