কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সংগঠনের সহযোদ্ধার ওপর হামলা ও পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ নানা অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা ও পৌর যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমদ। তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা, পেশিশক্তির প্রদর্শন এবং নানা অনাচারে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল মমিন ও নুর আহমদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত দুই নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কার কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।
সম্প্রতি নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি অংশ কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী। অন্যদিকে হামলায় আহত নেতা-কর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।
আহত নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢালুয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষ হওয়ার আগেই আবদুল মমিন, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন টিপু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, একই সময়ে আবদুল মমিন, আলী হোসেন টিপু ও আবদুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিলও বের করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আদালতে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কারাদেশে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবদুল মমিন ও নুর আহমদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে