মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নামকে কেন্দ্র করে কৌতুক করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়েও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ার ডালটন শহরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম মনে করতে না পারলে তাঁকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করলেই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে একই নামে মানুষকে ডাকার বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেন তিনি।
ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ঠাট্টা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, দেশটিতে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী নন। বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজনকে কাল্পনিকভাবে ‘মোহাম্মদ’ নামে ডেকে তাঁরা ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন তিনি। তবে তাঁর এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত দর্শকদের তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসারে মুসলিম পরিবারগুলোতে ‘মোহাম্মদ’ নামটি বহুল ব্যবহৃত। ফলে নামটি নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিদ্রূপ করার বিতর্ক তৈরি করেছে। অধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এর আগেও তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বক্তব্যে মুসলিম ও অভিবাসীদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনি প্রচারের সময় সোমালি বংশোদ্ভূত এবং মুসলিম-আমেরিকানদের নিয়েও নানা মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সমালোচনার মুখে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর দেশটির রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিনি এ প্রতিশ্রুতি আবারও তুলে ধরেন।
এর আগে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছিল আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিল (সিএআইআর)।
সূত্র: রয়টার্স
সদ্য সংবাদ/এসএস