হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ওমান ও ইরান কয়েকটি নিরাপদ ট্রানজিট রুট নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও তৈরি করেছে দুই দেশ, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে ইরানের সমন্বয় হয়েছে। নিরাপদ রুটের প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছেন, ইরানের ‘বৈধ’ দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে।
নাকদির দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান পরিবর্তন হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রণালি বন্ধ থাকার মধ্যেও কিছু ছোট নৌযান ব্যবহার করে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এসব নৌযান থেকে বড় ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করা হলেও এর পরিমাণ খুবই কম। তাই এটিকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না।
আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু লঙ্ঘনকারী প্রণালির পাথুরে অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিকল্প কয়েকটি নৌপথ তৈরি করেছে। এসব পথ ব্যবহার করে ছোট নৌযান থেকে বড় ট্যাংকারে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছে।
নাকদি জানান, বিস্ফোরণের মাধ্যমে তৈরি করা কথিত অবৈধ এসব নৌপথও শিগগির বন্ধ করে দেওয়া হবে।
একদিকে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ওমান ও ইরানের সমঝোতার ঘোষণা, অন্যদিকে প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান- দুই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে