বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও গতিশীল করতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ। বাণিজ্য বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনের এ বৈঠক শেষ হবে আগামীকাল শুক্রবার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বাধা দূর করা এবং রফতানির ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে পাটজাত পণ্যে ভারতের আরোপ করা অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাসহ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে এক হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য।
চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস। দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতের জন্য ভারতের বাজার থেকে নিয়মিত কাঁচামাল, কাপড়, সুতা ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা।
ফলে বাণিজ্য বাধা কমানো, রফতানি বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য উন্নয়নে নয়াদিল্লির এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে