দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝআকাশে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে বিমানটি ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। পরে সৌদি আরবের তাবুক সিভিল ও সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৮০ যাত্রী নিয়ে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ‘এফডিবি ১০৭৩’ ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বিন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। যাত্রার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জর্ডান-সৌদি আরব সীমান্তসংলগ্ন আকাশসীমায় পৌঁছালে বিমানের ভেতরে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিমানে থাকা যাত্রীরা ইসরায়েলের চ্যানেল ১২, চ্যানেল ১৫ এবং টাইমস অব ইসরায়েলকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁদের ভাষ্য, উড্ডয়নের সময় হঠাৎ বিমানের সামনের অংশ থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। কিছুক্ষণ পর ককপিটের দরজা খুললে ভেতরে রক্ত দেখতে পান তাঁরা।
মিয়াম নামের এক ইসরায়েলি যাত্রী চ্যানেল ১৫-কে জানান, ককপিটে থাকা এক পাইলট ফোল্ডিং ছুরি দিয়ে অপর পাইলটকে আঘাত করেন। এ সময় এমন কথাও ছড়িয়ে পড়ে যে, পাইলটদের একজন বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন। পরে বিমানটির ক্রু সদস্য এবং কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাত্রীদের ভাষ্য, ওই মুহূর্তে তাঁদের মনে হয়েছিল, হয়তো আর জীবিত অবস্থায় বিমান থেকে বের হতে পারবেন না।
ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি জর্ডান ও সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছায়। তখন মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে উড়োজাহাজটি ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে নেমে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে চলে আসে।
ঘটনার সময় পাইলটরা প্রথমে আন্তর্জাতিক জরুরি সংকেত ‘স্কোয়াক কোড ৭৭০০’ চালু করেন। এরপর বিমান ছিনতাইয়ের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত ‘কোড ৭৫০০’ সক্রিয় করা হয়। পরে ক্রু ও কয়েকজন যাত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইসরায়েল নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি যুদ্ধবিমান পাঠায়। পরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাবুকে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষও বিমানটিতে কারিগরি ও অভ্যন্তরীণ সংকটের সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর দুবাই ও তেল আবিবের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়। তবে চলন্ত বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
সদ্য সংবাদ/ এআর