সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন বৈঠকে এ নির্দেশ দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
প্রতি মাসে সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হবে।
সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সংকটের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় একটি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাদের অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো এলাকায় সংকটের কারণ কী এবং কেন নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে, তা মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার পর এলপিজি আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। কোনো এলাকায় সরবরাহ কম থাকলে সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি বিক্রি অথবা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেশের বাজারে এলপিজির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাজারে এলপিজির কোনো সংকট নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত ওই সভায় দেশের এলপিজি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।
ওই সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর