রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। পরে অভিযোগের বিষয়ে দেওয়া তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
শিবিরের অভ্যন্তরীণ নথি এবং সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের নীতি ও উদ্দেশ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁর জবাব সন্তোষজনক হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া শিবিরের একটি চিঠিতেও আম্মারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদতে অনীহা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ চলাফেরা, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আম্মারের কয়েকটি কর্মকাণ্ডকে সংগঠন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচনা করেছে। এসব কর্মকাণ্ড সাংগঠনিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও নথিতে তুলে ধরা হয়েছে।
শিবিরের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের সাথীপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সাংগঠনিক পর্যায়ে আলোচনা হয় এবং তাঁকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সেক্রেটারিয়েট সভায় সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের উল্লেখ করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযোগগুলো সামনে আসার পর সংগঠনের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে ওই চিঠিতে জানানো হয়।
নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরদিনের চিঠিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আম্মারের সাথীপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। শিবিরের দাবি, সেই ব্যাখ্যাও সন্তোষজনক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাথীপদ বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। নির্বাচনের সময় ওই প্যানেলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীবকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
তবে সালাহউদ্দিন আম্মার বরাবরই ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। সাথীপদ বাতিলের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: এনপিবি নিউজ
সদ্য সংবাদ/ এআর