রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে ঘিরে। ঘটনাটির নেপথ্যে তার সমর্থক বা ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও, এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। মিষ্টি নিজেও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করার পর ওষুধ, টিকা, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পাকা ও আধাপাকা স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছিল। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে তার পূর্বের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালত বা তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
এ ঘটনায় মিষ্টির পারিবারিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। সাংবাদিক রুহুলের একটি ফেসবুক পোস্টে মিষ্টিকে প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটন ও সাবেক বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ওই পোস্টে নিউটনের অতীত ও মিরপুরের অপরাধজগতের সঙ্গে তার কথিত সম্পৃক্ততা নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টে থাকা এসব বক্তব্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত এগিয়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, হামলা প্রতিরোধে পুলিশের দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভবন ধ্বংসের পরও ভাঙা একটি কক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে; তবে পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গার মালিকানা, হামলার পরিকল্পনা, ভাঙচুরে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারও প্রভাব ছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলই হবে মূল বিষয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস