লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খাবারের বকেয়া বিল পরিশোধের দাবি ঘিরে একটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভেতরে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিক শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন শাহাদাত।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাইয়্যেদ জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবিরী। তিনি জামায়াত মনোনীত উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং হায়দারগঞ্জ বাজার বড় মসজিদের খতিব। অন্যদিকে অভিযোগকারী শাহাদাত হোসেন হায়দারগঞ্জ বাজারের ‘ঘরোয়া ফুড অ্যান্ড কাবাব ঘর’-এর মালিক।
শাহাদাতের অভিযোগ, জাহেদ বিভিন্ন সময়ে ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতেন এবং অতিথিদেরও নিয়ে আসতেন। অধিকাংশ সময় বাকিতে খাবার গ্রহণ করায় একপর্যায়ে তাঁর কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওনা হয়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওই অর্থ পরিশোধ না করায় তিনি টাকা চাইতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
রেস্টুরেন্ট মালিকের দাবি, গত ২৭ অক্টোবর ১২ থেকে ১৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান জাহেদ। এ সময় বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ও মূল ফটকে তালা দেওয়া হয় এবং কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। ঘটনার কিছু অংশ সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী মো. রবিনের ভাষ্য, ঘটনার দিন সকালে রান্নাঘরে তালা দেওয়া হয়। পরে রাতে মূল ফটকেও তালা লাগিয়ে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।
শাহাদাত হোসেন বলেন, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তিনি হুমকির মুখে পড়েছেন। তিন দিন ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থেমে গেছে। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্টের কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইয়্যেদ জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবিরী। তাঁর দাবি, তিনি রেস্টুরেন্টে কোনো তালা দেননি; বরং মালিক নিজেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। শাহাদাতের কাছে তাঁর কোনো বকেয়া নেই, উল্টো তিনি নিজেই টাকা পাবেন বলে দাবি করেন জাহেদ।
এদিকে হায়দারগঞ্জ বাজার কমিটির সদস্য মো. মিস্টার জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের কথা তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত তাঁর জানা নেই।
রায়পুর থানার এএসআই নির্মল ত্রিপুরা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস