ভারতের দিল্লিতে যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে নদীতে নেমে গোসল করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। শুধু পানিতে ডুব দেওয়াই নয়, নদীর পানি হাতে তুলে পান করেও এর পরিচ্ছন্নতার দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দেড় বছরে যমুনার দূষণ প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে পরিবেশগত পরিমাপের তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এখনো উদ্বেগজনক।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি সেখানে নদীতে নেমে বলেন, পানির মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে যমুনায় পরিযায়ী পাখির আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, নদীতে কুমিরের মতো প্রাণীর উপস্থিতিও পানির পরিচ্ছন্নতার ইঙ্গিত দেয়।
মনোজ তিওয়ারির দাবি, যমুনার বর্তমান পানি ছটপূজার মতো ধর্মীয় আয়োজনে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠেছে। এ সময় নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সাবেক আম আদমি পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে বিজেপির দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে অগ্রগতি করেছে, কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। দলটি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও নদীতে নেমে গোসল করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
বিজেপির এসব দাবির জবাবে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর দাবি, পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় যমুনার পানি আগে থেকেই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এএপি সরকারের সময় ওই অংশের পানির মান আরও ভালো ছিল।
বিজেপি নেতার দাবির জবাবে সৌরভ ভরদ্বাজ মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান।
যমুনার পানির দূষণ পরিমাপে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বিওডি। পানিতে থাকা জৈব বর্জ্য ভাঙতে অণুজীবের যতটুকু অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তার ভিত্তিতে এই মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বিওডির পরিমাণ বেশি হলে পানিতে জৈব দূষণের মাত্রাও বেশি থাকে।
গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার নিচে। কিন্তু দিল্লির বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্যে দেখা গেছে, কয়েকটি এলাকায় এই সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।
দিল্লিতে প্রবেশের মুখে পাল্লা এলাকায় বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম থাকলেও আইএসবিটি সেতু এলাকায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ মিলিগ্রামে। আর আইটিও এলাকায় পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ১৮ মিলিগ্রাম।
অর্থাৎ, যমুনার পানির মান পুরো দিল্লিজুড়ে এক রকম নয়। কোথাও দূষণের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমায় থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় তা অনেক বেশি। ফলে বিজেপি নেতার পানিতে ডুব দেওয়া ও পানি পান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নদীর প্রকৃত দূষণ পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস