কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সারের সংকটের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের বিসিআইসির ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ কৃষক। এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও ডিলারের লোকজনকে গুদামের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন তারা।
পরে পুলিশ, বিজিবি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
কৃষকদের ভাষ্য, রবি মৌসুমে আমন, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বেড়েছে। তবে মৌসুমের শুরু থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার সকালে ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিতরণের খবর পেয়ে সেখানে কয়েকশ কৃষক জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই জানানো হয়, বরাদ্দের সার শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবস্থান নেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
কৃষক ওমর ফারুক বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নের কৃষকেরাও সার না পেয়ে আন্দোলন করেছিলেন। তখন সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না; বরং সংকট আরও বেড়েছে।
গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরেও সার পাওয়া যায় না। তাই সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছি।’
একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই। অনেক দিন ধরে ঘুরছি। আজ লাইন ধরেছিলাম, পরে শুনি সার শেষ। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, সারের সংকট নাই, তাহলে আমরা সার পাই না কেন?’
ডিলার পয়েন্টটির সাব ডিলার খায়রুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। শুক্রবার দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, একসঙ্গে অনেক কৃষক সার নিতে যাওয়ায় এবং সবাইকে দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগেশ্বরীর এই ঘটনার আগে জেলার আরও কয়েকটি উপজেলায় সার নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুদিন আগে রাজিবপুর উপজেলার একটি গুদাম থেকে সার লুটের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কৃষকদের বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ কৃষকদের ডিলার লাঠিপেটা করতে গেলে সেখানে হট্টগোল বাধে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি গোডাউন লুট করেন। পরে তদন্তে ডিলারের গাফিলতির তথ্য পাওয়া যায়। এর ১৫ দিনের মাথায় রৌমারীর একটি গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান আরেক দল কৃষক। একই দিনে অন্য একটি ডিলার পয়েন্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করতে হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর