সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ ‘পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতাল’-এ চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শিউলী খাতুন (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
নিহত শিউলী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের উত্তর সারটিয়া গ্রামের মো. মাহিমের স্ত্রী। এ ঘটনায় ক্লিনিক পরিচালক ও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রসববেদনা উঠলে শিউলী খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর ২টার দিকে সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ ও অ্যানেস্থেটিস্ট ডা. রোমেলের উপস্থিতিতে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। বেডে নেওয়ার পর রোগী বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা বিষয়টি পরিচালক মো. কামাল তালুকদার ও চিকিৎসকদের জানান। পরে পরিস্থিতি জটিল দেখে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রসূতিকে পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়।
দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ওটিতে রাখার পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে প্রসূতিকে বের করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে ক্লিনিকে ফিরে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিচারের দাবিতে থানায় লিখিত এজাহার দেন। নিহতের ভাই ও শিয়ালকোল ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না শেখ এ অভিযোগ দায়ের করেন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে সিরাজগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উক্ত হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৯ মে সাবিনা খাতুন (২৪) নামে এক নারী অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের পর চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রাণ হারান। সে সময় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন। বারবার একই ক্লিনিকে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা ক্লিনিকটির লাইসেন্স বাতিল ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর