পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এতে প্রকল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় ও স্থাপনায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভার রুমে আগুন লাগায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও নথিপত্রের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতের শেষভাগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) পাওনিয়ার বেজে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে যায় কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা পর্যন্ত এসব স্থাপনার কয়েকটিতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে প্রকল্পের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
গভীর রাতে সার্ভার রুমে আগুন
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, ৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
পুড়ে গেছে কম্পিউটার ও সার্ভারের যন্ত্রাংশ
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের কার্যালয়ের কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট
অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প এলাকার কয়েকটি স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সার্ভার রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর একটি স্থাপনায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় আগুন লাগার কারণ এবং এতে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসা প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ড. করিব হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে