রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার সকালে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানা গেছে। একই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠায় দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকায় ভাসমানভাবে বসবাস করতেন। অর্থের বিনিময়ে তাদের হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গভীর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় ধরে এমন তাণ্ডবের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ক্লিনিকের কর্মী, মামলার এজাহার এবং স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, ঘটনার সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। হামলা ও ভাঙচুর চলাকালে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার।
তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে হামলার নেপথ্য কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস