রাজধানীর সবুজবাগে নারী বন্ধুর ভাড়া বাসায় সিফাত উল্লাহ (২৭) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন।
রোববার বেলা ৩টার দিকে সবুজবাগ আদর্শপাড়া বড়ইতলা ব্রিজ গার্মেন্টস গলির একটি বাড়ির পঞ্চম তলায় এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত সিফাতকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাত উল্লাহর বাবার নাম জয়নাল আবেদিন। কিছুদিন আগে তিনি কাতার থেকে দেশে ফেরেন। তাঁর পরিবারের বাসা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী দোলাইরপাড় এলাকায়।
সিফাতকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তরুণী নাজিফা শেখ নেহা নিজেকে তাঁর বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানান। নেহার ভাষ্য, সিফাত তাঁর বন্ধু ছিলেন এবং শিগগিরই তাঁদের বিয়ে করার কথা ছিল।
নেহা জানান, রোববারই প্রথম সিফাত তাঁর বাসায় যান। ওই সময় জয় নামে স্থানীয় এক যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। বাসায় সিফাতের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
জয়কে তিনি বড় ভাই বলে ডাকতেন উল্লেখ করে নেহা জানান, একপর্যায়ে জয়, ইয়াসিন, রাব্বিসহ তাঁর সঙ্গে থাকা পাঁচ-ছয়জন সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যান। পরে তিনি আহত সিফাতকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে নেহার অভিযোগে অভিযুক্ত রাজিব ওরফে রাব্বি ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা রাব্বির দাবি, ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে পৌঁছালে সিফাতই প্রথম তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং ছুরিকাঘাত করেন। পরে হাতাহাতির ঘটনায় দুজন আহত হন।
ওই বাসায় নাজিফা শেখ নেহা একটি কক্ষ সাবলেট নিয়ে থাকেন বলে জানান বাড়ির বাসিন্দা হাসনা বেগম। তাঁর ভাষ্য, তিনি নিজে একটি কক্ষে একা থাকেন এবং পাশের কক্ষটি ওই তরুণীকে সাবলেট দিয়েছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে তিনি ঘটনার খবর পান। পরে মুগদা হাসপাতালে গিয়ে সিফাতকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
হাসনা বেগমের দাবি, গত ১ জুলাই নেহা সাজিদ নামের এক যুবককে স্বামী পরিচয় দিয়ে পঞ্চম তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর থেকে সিফাত উল্লাহ নিয়মিত নেহার কাছে ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে জানানো হয়েছে। ঘটনায় ইয়াসিন ও রাব্বি নামের দুজন আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁরা হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর