আন্তর্জাতিক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চার গবেষক। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর নাম এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত একক বছরের গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
প্রকাশিত তালিকার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক এবার জায়গা পেয়েছেন। এর মধ্যে বেরোবি থেকে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলী এবং দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম।
গবেষণাক্ষেত্রে আরও একটি ব্যতিক্রমী অর্জন এসেছে বেরোবির শিক্ষার্থী অভিজিৎ ঘোষের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই শিক্ষার্থীও বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
এবারের স্বীকৃতিকে নিজের দীর্ঘ গবেষণা কার্যক্রমের ধারাবাহিক ফল হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম। টানা পঞ্চমবারের মতো তিনি এ তালিকায় জায়গা পাওয়ার পর বলেন, এই অর্জনের পেছনে পরিবার, সহ-গবেষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতেও জ্ঞান সৃষ্টি এবং সমাজের কল্যাণে গবেষণার কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান জানান, দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বিভাগ ও গবেষণাগারে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার মতে, এ স্বীকৃতি যেমন আনন্দ ও গর্বের, তেমনি এর সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে। তরুণ গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবন এবং দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এদিকে, বাংলাদেশের গবেষকদের সামগ্রিক অবস্থানের দিক থেকেও এবার উল্লেখযোগ্য কয়েকজন গবেষক তালিকায় উঠে এসেছেন। দেশের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মির্জা হাসানউজ্জামান। এরপর রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুনতাসির মুর্শেদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. তরিকুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের এম. খালিদ হোসেন।
বেরোবির তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর এই স্বীকৃতিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস