এক বছরের দায়িত্বের শেষ দিনে ছয়টি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শেষ দিনের কর্মসূচিগুলো পরিণত হয় উৎসবমুখর আয়োজনে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ‘শেষ বিকেলের উৎসব’, ম্যাগাজিন ‘ছত্রিশে তেত্রিশ’-এর মোড়ক উন্মোচন, শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট উদ্বোধন, শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়েবসাইট উন্মোচন এবং ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন। এ ছাড়া পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে জাকসু শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও পুরস্কার বিতরণী এবং জাকসু নাট্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দায়িত্বের শেষ দিনের প্রথম আয়োজন ‘শেষ বিকেলের উৎসব’ শুরু হয় বিকেল ৩টায় জাকসু ভবনের সামনে। এতে উদ্যোক্তা মেলা, মেহেদি উৎসব ও ‘জাকসুকে চিঠি’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় উন্মোচন করা হয় জাকসুর ম্যাগাজিন ‘ছত্রিশে তেত্রিশ’- এর মোড়ক। এতে জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম, বিভিন্ন উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ম্যাগাজিন উন্মোচনের পর উদ্বোধন করা হয় ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট’। জাকসুর উদ্যোগে তৈরি এ ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে মূল্যায়ন ও মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। দায়িত্বের শেষ দিনে ওয়েবসাইটটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে জাকসু। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের জন্য ‘কেনাবেচা জেইউ’ নামের ওয়েবসাইট উন্মোচন করা হয়।
এদিন বিকেল ৫টায় জাকসুর উদ্যোগে ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে জাকসু শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন তরুণ নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্না। এ সময় জাকসু নাট্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তাই দায়িত্বের শেষ দিনে আমরা ওয়েবসাইটটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষককে হেয় করা বা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও মতামতের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সেক্টরের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা আশা করছি, প্রশাসন ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে অনতিবিলম্বে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করবে এবং এটিকে একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় রূপ দেবে।”
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, কিছু জায়গায় আমরা সবকিছু করতে পারিনি। তবে জাকসু এক বছর দেখিয়ে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে অনেক কাজ করা সম্ভব। আমরা চাই জাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। দায়িত্ব শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কাজ ও দায়িত্ব শেষ হয়নি। আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাব। অবিলম্বে জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণা করতে হবে। জাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সুন্দর মেলবন্ধন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি জবাবদিহির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।”
জাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “এই এক বছরে জাকসুর ভিপি ও বিভিন্ন সম্পাদকদের মধ্যে কে কার চেয়ে বেশি কাজ করবে-এমন একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ছিল। জাকসুর অনুপস্থিতিতে এই কর্মব্যস্ততা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জাকসু একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাঙ্গনে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি যদি বজায় রাখা যায়, তাহলে এটি আমাদের অন্যতম প্রধান অর্জন হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে হবে।”
দিনব্যাপী এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাকসুর এক বছরের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শেষ দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাকসু ভবন ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে