ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে জুমা বলেন, প্রথম যে ছবিটি ভাঙচুর করা হয়েছে, সেটি শুধু জিন্নাহর একক ছবি নয়। তাঁর দাবি, ছবিটি ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সময়কার একটি সংবাদপত্রের কাটিং। ওই সময় একটি সংবাদমাধ্যম জিন্নাহকে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল। প্রায় ৬০ বছর পর সেই ছবির দায় ডাকসুর ওপর বর্তানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্বিতীয় ছবিটির প্রসঙ্গে ডাকসুর এই সম্পাদক বলেন, এটি ১৯৪০ সালে ‘বাংলার বাঘ’ এ কে ফজলুল হকের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের সময়ের ছবি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখা যে লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই নিহিত ছিল, এটি সেই প্রস্তাবের ছবি। সেখানে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহও দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ কারণেই ছবিটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তৃতীয় ছবিটি নিয়ে জুমা বলেন, সেটি ভাঙার সময় বলা হয়েছে, জিন্নাহ পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত। অথচ ওই ছবির ক্যাপশনেই জিন্নাহর সেই বক্তব্য উল্লেখ করা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ছবিটিকে ‘গ্লোরিফাই’ করা হয়েছে দাবি করে সরিয়ে ফেলার কথা বলা প্রসঙ্গে জুমা বলেন, এমন বক্তব্য দেওয়ার জন্য কত বড় ‘গণ্ডমূর্খ’ হতে হয়, তা তিনি জানেন না।
ফেসবুক পোস্টের শেষ দিকে জুমা লেখেন, ‘যাই হোক, এইটা মাত্র শুরু। বিসমিল্লাহ।’
সদ্য সংবাদ/ এআর