রাজধানীর উত্তরায় সজীব প্রামাণিক (২৫) নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে মারধরের পর পাঁচতলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও দুই শ্যালকের বিরুদ্ধে। এতে তার দুই হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছে।
সজীব প্রামাণিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পরীক্ষাগারের সহকারী হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় তার বাবা মুন্নাফ প্রামাণিক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সজীবের স্ত্রী শাহজাদী আক্তার (৩০) এবং তার দুই ভাই শাহাদত হোসেন (৩৫) ও শামছুদ্দিন শাওনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে সজীব ও শাহজাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে শাহজাদী উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে বাবার বাসায় যান। গত ১৮ জুন স্ত্রীকে নিজের বাসায় ফিরিয়ে আনতে সজীব শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহজাদী তার দুই ভাইকে ডাকেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর তারা সজীবকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে পঞ্চম তলার বারান্দায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে নিচে ফেলে দেন।
এ ঘটনায় সজীবের দুই হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়। পরে অভিযুক্তরাই তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, হাসপাতালে গিয়ে সজীবের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। ঘটনার পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা পালিয়ে গেছেন।