পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে ভারতীয় বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করার অভিযোগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় তেরো মাস আগে সংঘটিত ওই সংঘাতে ছয় সেনাসদস্য নিহত হওয়ার তথ্য সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
কংগ্রেসের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনব্যাপী সংঘটিত সামরিক লড়াইয়ের সময় ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং বিমানবাহিনীর একজন সদস্যসহ মোট ছয়জন নিহত হন।
বিরোধী দলটির অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এতদিন এ তথ্য সংসদ ও দেশের জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল। কংগ্রেসের ভাষ্য, তেরো মাস পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করে সরকার শুধু সংসদকেই বিভ্রান্ত করেনি, বরং দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া সেনাসদস্যদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি থেকেও বঞ্চিত করেছে।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সাবেক সেনাবিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা অনুমা আচার্য সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
অনুমা আচার্য বলেন, অতীতের সব সরকার দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া প্রতিটি সেনাসদস্যকে প্রকাশ্যে বীরের মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করছে এবং সাধারণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল রোহিত চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে সেনাসদস্যদের ব্যবহার করা হলেও তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে কোনো সেনাসদস্য নিহত হননি বলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়েছেন। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ও শহীদদের প্রতি চরম অসম্মানজনক। এ ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাব আনার ঘোষণাও দেন তিনি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড