বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে Productive Ramadan Seminar শুরু হয়। এতে নোয়াখালী অঞ্চলের দুইজন বিশিষ্ট আলেম পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণাধর্মী আলোচনা উপস্থাপন করেন।
সেমিনারের প্রথম পর্বে মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস সাহেব “বস্তুবাদের আগ্রাসন ও রমাদানের শিক্ষা” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে বস্তুবাদ মানুষের জীবনব্যবস্থাকে ক্রমেই ভোগ ও সম্পদকেন্দ্রিক করে তুলছে, যার ফলে মানবিক সম্পর্ক, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। রমাদান মাস আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে ভোগবাদী মানসিকতা থেকে বের হয়ে দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু জীবন গঠনের শিক্ষা দেয়। রোজা মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সামাজিক সমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
আছর নামাজের পর সেমিনারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে মাওলানা আফসার উদ্দিন সাহেব “ইসলামবিহীন পৃথিবী: সংকট ও উত্তরণের পথ” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরও আধুনিক বিশ্ব নৈতিকতা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের গভীর সংকটে নিমজ্জিত। ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলে সমাজে স্বার্থপরতা, অন্যায়, পারিবারিক অবক্ষয় এবং মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবকল্যাণভিত্তিক জীবনব্যবস্থা অনুসরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি ও সমাজ এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে পারে।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামি মূল্যবোধ ও রমাদানের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ এবং বিশ্বমানবতার নৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আত্মউন্নয়ন, নৈতিক সচেতনতা এবং প্রোডাক্টিভ রমাদান পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
পূর্বনির্ধারিত নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচ্য বিষয়সমূহের উপর একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সাতজন অংশগ্রহণকারীকে অনুপ্রেরণামূলক ইসলামি বই পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ বিশ্ব মানবতার কল্যাণে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে ইফতারে অংশগ্রহণ করেন সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা।