লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও তার দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। পরে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন হামলাকারী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত ইকরা আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা অন্তর মজুমদার (৩৫) নামের এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং গণপিটুনি দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের মা। আহত অপর মেয়ের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হন। ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত শাহিনুর বেগম কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তবে কী কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।