ক্যাম্পাস রাজনীতি থেকে নগর রাজনীতি: একেএম রাকিবের ভবিষ্যৎ ভাবনা

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্ররাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিচিত মুখ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সদ্য সাবেক সভাপতি একেএম রাকিব এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে প্রস্তুত। সম্প্রতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই ছাত্রনেতা ক্যাম্পাস রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগর রাজনীতিতে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (১০ মে) দ্যা ঢাকা ডায়েরিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে একেএম রাকিব তার রাজনৈতিক পথচলা, আদর্শ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।

রাজনীতিতে আসার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রাকিব জানান, তার রাজনীতিতে প্রবেশ কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না। ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর থেকেই তিনি দেশসেবার স্বপ্ন দেখতেন, তবে প্রচলিত ধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে। তার ভাষায়, দেশের ওপর আধিপত্যবাদী প্রভাব কমিয়ে একটি টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তন গড়ে তোলাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

ক্যাম্পাস জীবনে ২০১৮ সালের হল আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আরও পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা এগিয়ে যাচ্ছে।

তার রাজনীতি করা নিয়ে পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকে। তবে তাদের মানসিক সমর্থন আমাকে সাহস জোগায়।'

জকসু নির্বাচন তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কী কী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এমন প্রশ্নের জবাবে রাকিব বলেন, 'আগে রাজনীতিকে শুধু আন্দোলনের জায়গা হিসেবে দেখতাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দায়িত্ববোধ অনেক বেড়েছে। এখন মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শিখেছি। একইসঙ্গে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও বেড়েছে।”

সামনের জকসু নির্বাচন নিয়ে নিজের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখনই নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা থাকবে।'

ক্যাম্পাস রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান রাকিব। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার অংশগ্রহণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলমান রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে এবারের নির্বাচনের মাধ্যমেই নগর রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদার্পণ করতে পারেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রনেতা। এ বিষয়ে রাকিব বলেন, নেতৃত্বের হাতেখড়ি যেখান থেকে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বৃহত্তর জনপদের মানুষের জন্য কাজ করতে চান।
 
তবে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে নির্বাচনের আগেই তার সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'রাজনীতিতে নানা ধরনের সমীকরণ থাকে। তবে আমি জনগণের সমর্থন ও নিজের অবস্থানের ওপর আস্থা রাখি। শেষ পর্যন্ত জনগণের গ্রহণযোগ্যতাই ফল নির্ধারণ করবে।'
 
নির্বাচিত হলে কোন পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন জানতে চাইলে তিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নগর গঠন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ সড়ক ও উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খেলার মাঠ, পাঠাগার ও সামাজিক কার্যক্রম বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
 
জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বর্তমানে আমার লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
 
নেপালের তুলনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ বা জেন-জি আসলেই কতটুকু মূল্যায়িত হচ্ছে এ বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে একেএম রাকিব বলেন, 'তরুণরা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে, ভবিষ্যতে তাদের ভূমিকা আরও বাড়বে।'
 
ভবিষ্যতে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে কোন খাতে কাজ করতে আগ্রহী জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যুব ও ক্রীড়া অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবো। আমার লক্ষ্য থাকবে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নেতৃত্ব গঠন এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে কাজ করা।'
 
সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে রাকিব বলেন, 'রাজনীতিকে আমি পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চাই। জনগণের সমর্থন পেলে সততা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো। ব্যক্তি নয়, একটি কার্যকর ও মানবিক সমাজ গড়াই আমার লক্ষ্য।'
 
একেএম রাকিবের এই রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকার নগর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার দৃঢ় অবস্থান এবং সক্রিয় ভূমিকার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে নগর ও জাতীয় রাজনীতিতেও তার প্রভাব লক্ষ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে