কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আতিকুর রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তাঁর ছোট ভাই আশিকুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় আশিকুর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আতিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে তাঁর ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল। ওই সময় তাঁর ব্যবহৃত গাড়িতে তাঁর ছোট ভাইসহ পাঁচজন যাচ্ছিলেন। হামলাকারীরা ধারণা করেন, তিনি ওই গাড়িতে আছেন এবং গাড়িটি লক্ষ্য করে হামলা চালান।
আতিকুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই তাদের পায়ে ধরে বলেছে, আমাদের মারবেন না। তবুও তারা রড ও হকিস্টিক দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেলা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল সভাপতি আমিমুল, শাওন ও সোহেলসহ প্রায় ৩৫ জন এ হামলায় অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে ফোন করলেও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাননি। হামলার দ্রুত বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা হলে প্রশাসন ‘ম্যানেজ হয়েছে’ বলে মনে করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামলার প্রতিবাদে আতিকুর রহমান প্রথমে দলীয় নেতাকর্মীদের শাপলা চত্বরে জড়ো হতে বলেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাটি থানায় লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত ১টার দিকে তারা সেখান থেকে সরে যান।
এ ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্যসচিব সাদিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে এনসিপির প্রার্থীর ভাই ও সমর্থকদের ওপর হামলা স্পষ্টতই শাপলা কলির ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটকেন্দ্র দখলের একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নীরবতা উদ্বেগজনক। আজ রাতের মধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আগামীকাল ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীর গাড়িতে হামলা এবং প্রার্থীর ছোট ভাইকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।