জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসংলগ্ন জয়ধ্বনি মঞ্চে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বস্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল—শিউলিমালা, দোলনচাঁপা, বিদ্রোহী ও অগ্নিবীণা হলের একেবারে পাশেই অবস্থিত জয়ধ্বনি মঞ্চ। এই মঞ্চে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভাগ নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট ও উৎসবের আয়োজন করে থাকে। তবে এসব আয়োজনে মাত্রাতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্রোহী হলের শিক্ষার্থী আনান আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যারা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের পড়ালেখায় এতে প্রচণ্ড ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে হলসংলগ্ন মসজিদগুলোতে এশার নামাজ আদায়েও মারাত্মক অসুবিধা হয়। তাই আবাসিক হলের পাশ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিদ্রোহী হলের আরেক শিক্ষার্থী আরমান বলেন, হলের একেবারে পাশেই মঞ্চ থাকায় প্রতিটি অনুষ্ঠানের শব্দ সরাসরি শিক্ষার্থীদের কক্ষে এসে পড়ে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আয়োজন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন আবাসিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষতির কারণ না হয়—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাজ সম্পন্ন হলে সব সাংস্কৃতিক আয়োজন টিএসসির দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের সমস্যা হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, নিয়মিতভাবে উচ্চশব্দের আয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের কানে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি যারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে চান, উচ্চশব্দের কারণে তা সম্ভব না হলে তারা মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারেন।